শহীদুল জহির (১৯৫৩-২০০৮)
বাংলা সাহিত্যে ম্যাজিক রিয়েলিজম বা জাদুবাস্তবতার প্রবর্তক ও কিমান্ডিং লেখক হিসেবে পরিচিত ছিলেন শহীদুল জহির। স্বকীয় ভাষাবিন্যাস ও রীতি ব্যবহার করে বাংলা কথাসাহিত্যে তিনি যোগ করেছেন স্বতন্ত্র রীতি-পদ্ধতি, যা 'শহীদুল জহিরীয়' ধারা বা প্রবণতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর সাহিত্যের বৈশিষ্ট্য স্বদেশ, হাজনৈতিক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। তাঁর গল্প-উপন্যাসে রাজাকার ও সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর কদর্য নৃশংস চিত্র বিস্তার লাভকরেছে এবং একই সাথে ফুটে উঠেছে জীবনবোধ।
- শহীদুল জহির ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৫৩ সালে পুরান ঢাকার নারিন্দায় (ভূতের গলি) জন্মগ্রহণ করেন। প্রকৃত নাম: মোহাম্মদ শহীদুল হক। পৈতৃক নিবাস: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার হাশিল গ্রামে।
- ১৯৭৪ সালে তাঁর প্রথম গল্প 'ভালবাসা' সাপ্তাহিক বিচিত্রা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।
- তিনি ২৩ মার্চ ২০০৮ সালে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।
তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মসমূহ:
গল্পগ্রন্থ: 'ভালবাসা' (১৯৮৫), 'পারাপার' (১৯৮৫), 'কাঠুরে ও দাঁড়কাক' (১৯৯২), 'কাঁটা' (১৯৯৫), 'ডুমুরখেকো মানুষ' (২০০০), 'আগারগাঁও কলোনিতে নয়নতারা ফুল কেন নেই' (২০০০), 'এই সময়' (২০০০), 'চতুর্থ মাত্রা' (২০০০), 'ইন্দুর-বিলাই খেলা' (২০০২), 'কোথায় পাব তারে' (২০০৪), 'ডলু নদীর হাওয়া' (২০০৪), 'মহল্লায় বান্দর, আব্দুল হালিমের মা এবং আমরা' (২০০৪), 'মাটি ও মানুষের রং', 'তোরাব সেখ, 'ঘেয়ো রোদের প্রার্থনা নিয়ে'।
উপন্যাস:
'জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা' (১৯৮৭): এটি বাংলাদেশেরস্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমিকে ধারণ করে রচিত নাতিদীর্ঘ উপন্যাস। এ উপন্যাসে তিনি ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতের ঘটনাবলির মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট এবং মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রাজাকারদের পুনর্বাসন ও ক্ষমতায়নকে তুলে ধরেছেন। ২০২২ সালে উপন্যাসটি 'লাইফ অ্যান্ড পলিটিক্যাল রিয়ালিটি : টু নভেলাস শিরোনামে ইংরেজি ভাষায় অনূদিত হয়। এ উপন্যাসের আলোকে সৈয়দ জামিল আহমেদ একই শিরোনামে একটি মঞ্চ নাটক তৈরি করেন।
'উড়াল' (১৯৮৩), 'চন্দন বনে' (১৯৮৪), 'সে রাতে পূর্ণিমা ছিল' (১৯৯৫), 'মুখের দিকে দেখি' (২০০৬), 'আবু ইব্রাহীমের মৃত্যু' (২০০৯), 'মেহেরনি'।